ভালোবাসা একটি অসাধারন গল্প পড়ুন ভালো লাগবে।


লেখিকা: Ridisha Tanzim
ট্রেনে বসে যাচ্ছি। এটাই আমার প্রথম ট্রেন ভ্রমন। কেমন যেন দুলছে ট্রেন টা। বাইরে থেকে ট্রেন #দেখে মনে হয় প্রচুর গতি তে যাচ্ছে৷ ভেতর থেকে অনুভুতি টা ঠিক ভিন্ন মনে হচ্ছে। যে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছি সেই স্টেশন এর নাম রামু। নাম টা অদ্ভুত। কিন্তু যা অদ্ভুত তাই সুন্দর। স্টেশন টা অন্য সব স্টেশন এর মতো না। খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।সাধারণত স্টেশন এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়না। যাত্রী ছাউনি তে আমার পাশে এক কন্যা বসে ছিলো। লাল বেনারসি তার গায়ে। অনবরত টিস্যু দিয়ে চোখ মোছার কাজে সে ব্যস্ত ছিলো। ট্রেনে ওঠার পর দেখি সেই মেয়ে আমার সামনের বেঞ্চে বসেছে এবং ট্রেন ছাড়ার পর সে হাউমাউ করে কাদতে আরম্ভ করলো। তার পাশে তার স্বামী বসা ছিল। ভদ্রলোক তার নতুন স্ত্রী কে স্বান্তনা দেয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করলো না। মাঝে মাঝে আবার দাত কিটমিট করে নিচু গলায় নতুন বধু কে বকাবকি করলো। আমি অবাক হয়ে ভদ্রলোক কে দেখলাম। পুরুষজাতি এমন কেন! নতুন বউটি তার বাবা মা সবাই কে ছেড়ে চলে যাচ্ছে৷ যাদের সাথে কেটেছে বউটির ছেলে বেলা তাদের কে ছেড়ে যাওয়ার অনুভুতি কি এতই ঠুংকো যে কান্না করা যাবেনা। আমি নতুন বউটিকে বললাম আমার পাশে এসে বসো। সে বসলো। আমি বললাম নাম কি? সে বললো লাবণী। আমি বললাম লাবনী তুমি কেদো না। এই কথাটি বলার সাথেই সে আরো বেশি কাদতে লাগলো। আমি অন্য দিকে চেয়ে রইলাম। তার স্বামী দেখি একটু পর বললো যে লাবনী তুমি কেদো না৷ শশুড় শাশুড়ীর জন্য কেউ এতো কাদে! আমি অবাক হয়ে বললাম মানে! লাবনীর স্বামী বললো, ” চাকরি সুত্রে খুলনা থাকতে হয়৷ আমার বাসা এই রামু স্টেশনের পাশেই। লাবনী কে বিয়ের পর আমার বাবা মায়ের কাছেই রাখি। ভেবেছিলাম খুলনা তে সব গুছিয়ে লাবনি কে নিয়ে যাবো। আমার বাবা মা লাবনীর সাথে এমনই মায়া বেধে ফেলেছে যার ফলস্বরূপ লাবনী এতো কাদছে। ও হয়তো বিয়ের সময়ও এতো কাদেনি!”
আমি জানালার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম আহা সংসার, আহা মায়া, কি ভালোবাসা।

Have any Question or Comment?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *